|| নদীর ধারে ভূতের স্থান - পর্ব ০১ || Kahinir Duniya (কাহিনির দুনিয়া)

|| নদীর ধারে ভূতের স্থান - পর্ব ০১ ||

 লেখক - কৌশিক মন্ডল

|| নদীর ধারে ভূতের স্থান - পর্ব ০১ ||


একটি ছোট্ট গ্রামের নদীর কিনারায় একটি পুরাতান মন্দির ছিল। সেই মন্দিরটি বহুবছর ধরে ছিল অবতীর্ণ, কিন্তু তার কাহিনী নদীর কাছে কোন গ্রামবাসীর কাছে জানা যায় নি।

একদিন, নদীর পাশে থাকা গ্রামের আলোক নামে একটি ছেলে ছিল । তার সেই নদী কিনারায় মন্দির সম্পর্কে জানার খুব ইচ্ছা হল। একদিন বিকাল বেলায় সে কৌতুহল বসত সেই মন্দিরে এসে পৌছাল। নির্জন মন্দিরে এসে সে মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করল এবং মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করেই এদিক ওদিক খোঁজ করতে শুরু করলো। খুজতে খুজতে আলোক এক আশ্চর্য জিনিস দেখতে পেল একটি পুরাতান পুস্তক। এবং সেই পুস্তকটিকে পাহারা দিচ্ছে এক মস্ত বিশাল সাপ। সাপটি প্রায় ৭ হাত লম্বা ধূসর রঙের গায়ে পোড়া কাঠের মতো চিহ্ন। এরপর আলোক কোনোরকম সেই সাপকে সরালো এবং পুস্তকটি উদ্ধার করলো। পুস্তকটি উদ্ধার করে খুলে পড়তে গিয়ে আলোক দেখতে পাই পুস্তকের প্রথম পাতাই লেখা ছিল, "নদীর ধারে ভূতের স্থান।"আলোকের মনে প্রশ্ন জাগলো "নদীর ধারে ভূতের স্থান"? এ কী আসলেই সম্ভব। নদীর ধারে তো অনেক পশুপাখি জীবজন্তু বাস করে তাদের থাকার স্থান ভূতের স্থান কীভাবে হতে পারে। আলোক পুস্তকটি পড়াতে এতটাই মগ্ন ছিল যে সে বুঝতে পারেনি কখন বিকাল থেকে রাত ঘনিয়ে এসেছে। হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনতে পেল আলোক, কেউ যেন হাসছে। এই শব্দ শুনতেই আলোকের মনযোগ ভেঙে যায় এবং সে দেখে অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। তাই আলোক আর বেশি দেরী না করে বাড়ির দিকে রওনা দিল। আর পুস্তকটি সেই মন্দিরের মধ্যেই যেখানে ছিল সেখানে রেখে দিল। আলোক নদীর সেই নির্জন রাস্তা দিয়ে হেটে হেটে বাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু আলোকের মাথাই সেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে "নদীর ধারে ভূতের স্থান" এটা কীভাবে সম্ভব। আলোক বাড়ি পৌছাল বাড়ি এসে কারোর সাথে কোনো রকম কথা না বলে নিজের ঘরে চলে যায়। আলোকের মনের মধ্যে কিন্তু সেই প্রশ্ন ক্রমশ ঘুরপাক খেতেই থাকে। আলোকের সেই রাত্রে কোনোমতেই ঘুম আসে না। আলোক শুধু ভাবে নদীর ধারে যদি সত্যিই ভূতে থাকে তাহলে একবার হলেও সেই ভূতেদের দেখতে হবে। এই ভাবতে ভাবতে আলোক কোনোরকম ভাবে ঘুমিয়ে পরে।

কিন্তু ঘুমের মধ্যেও সেই ঘটনা আলোকের পিছন ছাড়েনি। সে ঘুমের মধ্যেও স্বপ্নে দেখতে পাই যে সে সেই মন্দিরে বসে বইটি পড়ছে আর কারা যেন তার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে যেন কোনো প্রকার ছায়া। তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই তারা আলোককে ছুঁতে চাইছে কিন্তু ছুঁতে পারছে না। এরপর মন্দিরের ঘন্টা বেজে যায় আলোকের ঘুম ভেঙে যাই, আলোক উঠে দেখে তার ঘড়িতে এলার্ম বাজছে। আলোক উঠে দেখে সকাল সাতটা বাজে। উঠেই আলোক ভাবে যে সে কালকের ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু যানাবে কী না! তারপর আলোক ভাবে সে যদি এই ঘটনা সম্পর্কে তার স্বপ্নের কথা সম্পর্কে বইটি সম্পর্কে স্বপ্নে দেখা ছায়া সম্পর্কে কাউকে কিছু বলে কেউ বিশ্বাস করবে না উল্টে তাকে সবাই পাগল ভাববে কারণ এটা তো স্বপ্ন আর স্বপ্ন কী কোনোদিন সত্যি হয়। তাই আলোক কাউকে কিছু জানাই না। সে যথারীতি তার নিজের কাজে লেগে পড়ে।

এরপর কিছুদিন পাড় হয়ে যায় আলোক এইঘটনা স্বপ্ন ভূত এইসব সম্পর্কে প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। সে তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল গল্প করছিল হঠাৎ তার একটা বন্ধু বলে ওঠে,

বন্ধু :- "জানিস নদীর ধারে নাকি ভূত থাকে "।

একথা শুনে আলোকের মনে সেই পুরোনো প্রশ্ন আবার জেগে। ওঠে আলোক কৌতূহল বসত তাকে বলে,

আলোক :- "কে বললো তোকে এসব কথা ? নদীর ধারে আবার ভূত কীভাবে থাকবে সেখানে তো পশুপাখি জীবজন্তুরা থাকে"।

 একথা শুনে আলোকের সেই বন্ধুটি বলে 

বন্ধু :- "না তুই জানিস না" তাহলে কালকে দাদু বলছিল নদীর ধারে যে পুরোনো মন্দিরটি আছে সেখানে কোনো মন্দির ছিল না সেখানে ছিল শশ্মান। ওইখানে ভূতের উপদ্রব ছিল ওইখানে যাদের সমাধি রিতী আছে তাদের বাড়িতে কেউ যদি মারা যেত তাহলে ওইখানে সমাধি দিত"।

একথা শুনে আলোকের মনে প্রশ্ন জাগে। এতদিন আলোক জানতো শশ্মান তো খুব পবিত্র জায়গা সেখানে শুভশক্তি থাকে কিন্তু ভূত তো অশুভ শক্তি সেখানে কীভাবে ভূত থাকতে পারে। তার সাথে আলোক এটাও ভাবতে থাকে মানুষ মারা যাওয়ার পর তো আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না আর স্বপ্নে দেখা সেই আত্মা গুলোর তো কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তাহলে কী মানুষ মারা যাওয়ার পর ভূত হয়ে যায়? তাহলে কী সত্যিই নদীর ধারে ভূতের স্থান? আলোক এইবার নিজেই নিজের প্রশ্নের মধ্যে বাধা পড়ছে আলোক বুঝে উঠতে পারছে না কী করবে। সে কী সেই পুস্তকের কথা বলবে তার বন্ধুদের। সে কী তার স্বপ্নে দেখা সেইসব কথা বলবে। এইসব ভাবতে ভাবতেই আলোকের আর একটা বন্ধু রবি বলে ওঠে ,

রবি :- "তুই কী আজ নেশা টেশা করেছিস কীসব কথা বলছিস? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ওই মন্দিরে ভূতের আছে। নদীর ধারে কোথাও ভূত থাকতেই পারে না। নদীর ধারে তো অনেক পশুপাখি জীবজন্তুর বসবাস সেখানে কীভাবে ভূত থাকবে?"

একথা শুনে আলোক তার নিজের সমান কাউকে দেখতে পায় এবং আলোকও একই কথা বলে। তখন তার বন্ধুটি বলে,

বন্ধু :- "তোরা বিশ্বাস করবি কর না করবি না কর কিন্তু এটাই সত্যি নদীর ধারে ভূতের স্থান"।

তখন রবি বলে,

রবি :- "যদি সত্যিই ভূতের স্থান হয় প্রমাণ করে দেখা"।

তখন সেই বন্ধুটি বলে,

বন্ধু :- " তোরা যদি এতই প্রমাণ প্রমাণ করছিস তো যা না নিজে গিয়ে দেখ রাতের বেলা বুঝতে পারবি সব কিছু"।

একথা শুনে আলোক তার স্বপ্ন তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে বলে এবং সে বলে তার ও বিশ্বাস হচ্ছে না।
একথা শুনে তার বন্ধুটি বলে,

বন্ধু :- "দেখলি আমি বলছি না সত্যিই নদীর ধারে ভূত আছে"।

একথা শুনে রবি বলে,

রবি :- "আলোক তুই যা বলবি বল আমার ও কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না"। যদি সত্যিই ভূত থেকে থাকে তাহলে চল আমিও যাবো আমিও দেখবো আমিও সেই পুস্তকটি পড়বো।

একথা শুনে তার বন্ধুটি বলে,

বন্ধু :- "দেখ এইরকম করিস না এতে কিন্তু খুব রিস্ক আছে কী হবে কী হতে পারে কেউ জানে না কেউ বলতে পারবে না এইরকম করিস না।"

এমনিতে রবি খুব সাহসি ছেলে আর এদিকে আলোকের মনেও প্রশ্নের পর প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে আলোক বুঝতে পারছে না কী করবে তাই আলোকও বলে ওঠে,

আলোক :- " হ্যাঁ চল তোর সাথে আমিও আছি আমিও দেখতে চায় ভূতেদের আমিও জানতে চাই ভূতেদের তারা কেমন হয়?"

তখন তার বন্ধুটি বলে,

বন্ধু :- "দ্যাখ আগেই সাবধান করছি! পরে কিছু হলে আমি জানি না আমাকে কিছু বলিস না"।

তখন রবি বলে ওঠে,

রবি :- "ধূর্! ভীতুর ডিম তুই চুপ মনে সাহস নেই যখন তখন এইসব কথা কেন তুললি? আর তাছাড়াও তুই সত্যি বলছিস না ঢপের চপ ছাড়ছিস সেটাও তো দেখতে হবে নাকী !" 

একথা বলে রবি বন্ধুটিকে চুপ করিয়ে দেয়। এবং রবি আর আলোক তারা দুজনে সিদ্ধান্ত নেই এই রহস্যের উত্থান করেই ছাড়বে। তাই তারা ঠিক করে কাল সন্ধ্যা বেলায় নদীর ধারে সেই নির্জন পুরাতন মন্দিরে যাবে। এইবার সকলে বাড়ি চলে যায়। এদিকে আলোকও মনে মনে খুব কৌতূহল উৎসাহি হয়ে পড়ে কাল তার সকল প্রশ্নের উত্তর মিলবে। রাত্রে আলোক সেই নিয়ে ভাবতে থাকে আলোকের ঘুম কিছুতেই আসে না। আসতে আসতে রাত ফুরিয়ে সকাল হতে চলল। আলোকের চোখ লেগেই আসছে ঠিক সেই সময় ঘড়ির এলার্ম বেজে ওঠে। 
To Be Continued...........

আজকের মতো বন্ধুরা পর্ব ০১ এখানেই শেষ করছি । বন্ধুরা পর্ব ০২ খুব তাড়াতাড়ি আসবে। তার আগে তোমরা কমেন্ট করে জানাও পর্ব ০২ চাও কিনা আর নদীর ধারে ভূতের স্থান গল্পটি কেমন লাগল সেটাও কমেন্ট করতে ভুলো না। আর বন্ধুরা এই গল্পটি সবার সাথে সেয়ার করে দাও যারা এইরকম ভূতের গল্প অথবা মজাদার গল্প পড়তে পছন্দ করে। আর এইরকম গল্প, আর্টিকেলস এবং তথ্য অথবা অন্যান্য যেকোনোরকমের আর্টিকেল, তথ্য, গল্প সম্পর্কে পড়তে চাও তাহলে আমাদের Website kahinirduniya.blogspot.com এর সাথে জুড়ে থাকো। আর তোমাদের পছন্দ মতো আর্টিকেল, গল্প, তথ্য পেতে পোস্টে কমেন্ট করতে পার।


❤️ধন্যবাদ ❤️

Post a Comment

0 Comments