|| নদীর ধারে ভূতের স্থান - পর্ব ০২ ||
লেখক - কৌশিক মন্ডল
সকাল হয় আলোক শুধু বারবার ঘড়ি দেখছে, কখন সন্ধ্যা হয় ! সকালে আলোক তার সব কাজ সেরে ফেলার চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছুতেই পারছে না। তার কোনো কাজেই যেন মন বসছে না। মনটা যেন সেই নদীর ধারে পুরাতন মন্দিরেই পড়ে আছে। আর সব প্রশ্নের মধ্যে কেমন হারিয়ে যাচ্ছে আলোক। আস্তে আস্তে সকাল ঘনিয়ে দুপুর হয়। আর দুপুরের পরেই বিকেল আর তারপরই সন্ধ্যা। আলোকের মন আর স্থির থাকে না চঞ্চল হয়ে পড়ে। এরপর আস্তে আস্তে দুপুর ঘনিয়ে বিকেল হয়। আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা। এরই মধ্যে রবি আলোকদের বাড়িতে আসে,
রবি :- "আলোক, এই আলোক, বাড়িতে আছিস??"
আলোকের মা দরজা খুলে বলে,
আলোকের মা :- "আরে রবি, আয় আয় ভেতরে আয়।"
রবি :- "কাকিমা আলোক আছে?"
আলোকের মা :- " হ্যাঁ, আলোক ঘরেই আছে।"
ততক্ষণ আলোক রবির গলার আওয়াজ শুনে নিচে নেমে আসে,
আলোক :- "আরে রবি, আয় আয়।"
এরপর আলোক রবিকে নিয়ে তার ঘরে চলে যায়। ততক্ষণ আলোকের মা রবির জন্য জলখাবার আনতে যায়। আলোকের ঘরে বসে দুজনে গল্প করতে থাকে। এরই মধ্যে রবি বলে,
রবি :- "কী রেডি তো যাবার জন্য?"
আলোকের মা জলখাবার নিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে রবির কথা শুনতে পায়,
আলোকের মা :- "কীরে কোথাই যাবি? কোথাই যাবার জন্য রেডি হচ্ছিল?"
আলোক তার মাকে পুরাতন মন্দিরে যাবার কথা কিছুই বলেনি। বলতে চাইও না কারণ যদি বলে দেয়, যে সে সন্ধে বেলায় নদী যাবে পুরাতন মন্দিরে ভূতের খোঁজ করতে যাবে তাহলে তার মা তাকে যেতে দেবে না। তাই আলোক সব কথা লুকিয়ে যাই। এইবার যখন রেডি হওয়ার কথা আলোকের মা শুনে ফেলে তখন আলোক সেই কথা লোকানোর চেষ্টা করে এবং মিথ্যে করে বলে,
আলোক :- "কোথাই আর যাব্? সেরকম কোথাও যাবো না। ওই রবির ওর ছোটো ভাইয়ের জন্য একটা স্কুলের ব্যাগ কিনতে যাবে, তাই ওর সাথে একটু পাশের গ্রামের বাজারে যাব।"
একথা শুনে আলোকের মা বলে,
আলোকের মা :- "ওহ্! তো এই ভর সন্ধে বেলায় যাবি আসতে তো অনেক রাত হয়ে যাবে, আজ যাওয়ার দরকার নেই কাল সকালে যাবি, কাল সকালে কিনে নিবি।"
আলোকতো সংকটে পড়ে গেলো। আলোক মনে মনে ভাবল "আজ যদি আলোক না যাই তাহলে কোনোদিন হয়তো আর আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবো না। আর তাছাড়াও কোনোদিন এইরকম সুযোগ হয়ে উঠবে কী না জানি না। যেমন করেই হোক আজ আমাকে যেতেই হবে।"
আলোকের মা :- " কীরে, এত কী ভাবছিস?"
আলোক :- "না না মা আজ কোনোরকম করে হলেও যেতেই হবে! রবির ভাই-এর কাল স্কুল আছে যদি আজ না কেনা হয় তাহলে কীভাবে সে স্কুলে যাবে?"
এইরকমভাবে কোনোরকম জোর জবরদস্তি করার পর। অনেক কাঠ খড় পোড়ানোর পর আলোক মায়ের কাছে অনুমতি পায়।
আলোকের মা :- "ঠিক আছে যা কিন্তু বেশি দেরি করবি না। তোর বাবা অফিস থেকে আসার আগেই চলে আসবি। যদি তোর বাবা এসে শোনে, যে তুই রাত্রি বেলায় বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিস তাহলে কিন্তু খুব রাগারাগি করবে।"
একথা শুনে মায়ের কাছে অনুমতি পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু আলোক মনে মনে ভাবে, "এইসময় বাড়ির বাইরে যাচ্ছি, একথা শুনে যদি মায়ের মনে অন্য কোনো বিষয়ে সন্দেহ হয়, মিথ্যা কথা বলে বেরোচ্ছি বুঝে যাই। তাহলে হয়তো আর কোনোদিনও তাকে বিশ্বাস করবে না। কারণ এর আগে আলোক কোনোদিনও মিথ্যা বলেনি, মিথ্যা বলে বাইরেও যাইনি।" আলোকের মনে আশঙ্কা জাগে, তাই মায়ের মনে বিশ্বাস জাগাতে আর আশঙ্কা পূরণ করতে আলোক বলে,
আলোক :- " ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা করবো। আমরা বাজার যাচ্ছি কিছু আনতে হলে বলো টাকা দাও আসার সময় নিয়ে আসবো।"
একথা শুনে আলোকের মা বলে,
আলোকের মা :- " না না এখন কিছু লাগবে না। এখন সবকিছু আছে।"
আলোক :- " ঠিক আছে তাহলে।"
এইবার আলোক আর রবি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। রবি বলে,
রবি :- " ঠিক আছে কাকিমা তাহলে আসছি আমরা।"
আলোকের মা :- " হ্যাঁ ঠিক আছে আয় ! সাবধানে যাস্।"
রবি আর আলোক আলোকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে, দুজনে একটু বাজারের রাস্তার দিকে এগিয়ে যায়। এরপর কিছুক্ষণ রাস্তার ধারে বসে থাকে, তারপর নদীর রাস্তার দিকে রওনা দেয়। ততক্ষণ সবকিছু সরঞ্জাম জোগাড় করে ফেলেছে। সরঞ্জাম জোগাড় করেছে কারণ নদীর ধারে অনেক পশুপাখি জীবজন্তুর বাস তাই যদি কোনো জীবজন্তুর কবলে পড়ে। আর তাছাড়াও যদি সত্যিই ভূতেরা অনেক ভয়ংকর হয় সেখান থেকে তো পালিয়ে আসতে হবে। তাই হাতিয়ার হিসাবে কুড়ুল, ভালা, লাঠি, চাকু, ছুরি সব কিছু নিয়ে নিয়েছে।
এইবার দুজনে নদীর রাস্তাই রওনা দিয়েছে দুজনে, তখন ভর সন্ধ্যা একে ওপরের মুখ দেখতে পাচ্ছে না। তাই তারা আলো বলতে শুধু একটা মোমবাতি আর একটা দেশলাই নিয়েছে। আস্তে আস্তে গল্প করতে করতে দুই বন্ধু নদীর রাস্তার দিকে এগিয়ে চলেছে।
রবি :- " তুই কাকিমাকে বলিসনি আমরা নদীর ধারে পুরাতন মন্দিরে যাচ্ছি।"
আলোক :- "না না!"
রবি :- "কেন?"
আলোক :- " যদি সত্যি বলেদিতাম, যে আমরা নদীর ধারে যাচ্ছি পুরাতন মন্দিরে ভূতের খোঁজে তাহলে মা কী আমাদের আসতে দিত্?"
রবি :- " না না! ভালোই করেছিস বলিসনি, আমিও কাউকে বলিনি।"
এইভাবে গল্প করতে করতে দুজনে মিলে নদীর ধারে এসে পৌঁছায়। এসে দেখে সেই অর্ধভঙ্গ পুরাতন মন্দির। দেখেই কেমন গা ছমছম করছে। শরীর যেন একদম শিহরিত হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে একটা কুকুর আওয়াজ করে উঠলো "আউওওওওওও" আর মোমবাতির নিভে গেল চারিদিক কেমন অন্ধকার। এরপর রবি পকেট থেকে দেশলাই বের করে আবার মোমবাতি জ্বালাল। এরই মধ্যে দুজনে খানিকটা সাহস হারিয়ে ফেলে। আলোক লক্ষ্য করে রবি এত সাহসি হওয়া সত্ত্বেও দেশলাই জ্বালানোর সময় কেমন তার হাত কাঁপছিল। কিন্তু আলোকের মনে সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতেই থাকে, তাই আলোক পিছু পা হলো না। দুজনে মিলে মন্দিরের দরজার সামনে যাই। দেখে মন্দিরের দরজা সেইরকম ভাবেই লাগানো যেমনটা আগের দিন আলোক এসে লাগিয়ে দিয়ে গেছিল। দরজা খুলে মন্দিরের ভেতর ঢুকতেই আলোক দেখে মন্দিরে সেইরকম অবস্থাই আছে, যেমনটা সে আগের দিন দেখে গেছে। আলোক মনে মনে ভাবে এইকদিনে কী এই মন্দিরে কেউ আসেনি? কী করে সম্ভব এক পুরোহিত প্রতিদিন পুজো করতে আসতো সেও কী আসেনি? এরপর আলোক সেই পুরাতন পুস্তকেটি অর্থাৎ সেই পুরোনো বইটির খোঁজ করে। আগেরদিন যে জায়গায় বইটি ছিল এবং আলোক যে জায়গাতেই রেখে গিয়েছিল সেখানে আলোক যাই। গিয়ে দেখে এক আশ্চর্যকান্ড বইটি সেই জায়গায় নেই। সবকিছুই যখন একই জায়গায় একইরকম আছে বইটি কেন নিজের জায়গায় নেই? আলোকের মনে খটকা লাগে। রবি আলোক কে জিজ্ঞেস করে,
রবি :- " কই রে, কোথাই বই তুই যে বললি আগেরদিন এখানে এসেছিলি একটা বই ছিল বইটা পড়েছিলি কোথাই বই? এখানে তো কোনো বই নেই।"
এরপর আলোক সমস্ত ঘটনা সব কথা রবিকে বলে। এরপর সে কথা শুনে রবি বলে,
রবি :- " অনেকদিন আগে তো এসেছিলি তুই হয়তো ভুলে গিয়েছিস, বইটা হয়তো ওখানে নেই বা ওইখানে রাখিসনি অন্য কোথাও রেখেছিলিস। খোঁজ খোঁজ, খুঁজে দেখ পাবি যদি সত্যিই কোনো বই থেকে থাকে।"
আলোকের মনে কেমন খটকা লাগে, আলোক রবিকে বিশ্বাস করাবে কী করে, যে সে বইটা এখানেই রেখেছিল। আলোক কেমন মনে মনে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে চলেছে আর খুঁজে চলেছে। এরপর খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ করে রবি দেখে কিছু একটা উজ্জ্বল বস্তু। কেমন যেন মুক্তা পাথরের মতো জ্বলজ্বল করছে। রবি ভাবে হয়তো এটাই সেই পুস্তক যার কথা আলোক বলছিল তাই রবি বলে ওঠে, " খুঁজে পেয়ে গেছি" এই বলে রবি সামনে এগিয়ে যায় আর আলোক ও আসে। রবি একটু সামনে গিয়ে দেখে এটা তো সেই পুস্তকটিই যার কথা আলোক বলেছিল। আলোকও সামনে আসে আর বলে, "হ্যাঁ এটা তো সেই পুস্তক যা আমি আগের দিন পড়েছিলাম, কিন্তু এই পুস্তকটা আমি এখানে নয় ওখানে রেখেছিলাম।" এই বলে পুস্তকটি তুলতে যায় আর ঠিক তখনই ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। একটা সাপ এই সাপটা তো আগেরদিনের সাপটা নয়, এটা তো আরো বড়ো গায়ে কেমন কঙ্কালের মতো দাগ কাটা। এরপর কোনোরকম দুজনে মিলে সাপটাকে সরায় আর বইটি উদ্ধার করে। বইটি উদ্ধার করেই রবি খুলে দেখে প্রথম পাতাই লেখা "নদীর ধারে ভূতের স্থান"। যেমন টা আলোক বলেছিল! বইটিতে এই মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে লেখা রয়েছে, ভূতেদের সম্পর্কে লেখা রয়েছে, ভূতেদের অজানা সব তথ্য লেখা রইছে এইসব পড়তে পড়তে পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎই চোখ পড়ে এক লাইনের ওপর, এক হেডলাইন "ভূতেদের আমন্ত্রণের পদ্ধতি"। যাতে লেখা আছে ভূতেদের কীভাবে আমন্ত্রণ করা যাবে। কীভাবে ভূতেদের দেখা যাবে। আর তার নীচেই লেখা রয়েছে এই পদ্ধতিটি অনুসরণ না করাই ভালো।পদ্ধতিটি বিপদজনক আর প্রাণশংসয়ের। পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে অনেক বিপদ ঘনিয়ে আস্তে পারে তার পাশাপাশি প্রাণ হারাতে পারে। আলোক আর রবি "যা হবে দেখা যাবে আগে আমরা আমাদের উত্তর চাই", এই বলে তারা কোনো কিছুর পরোয়া না করে পড়তে শুরু করে।
প্রথম লাইন পড়ে "শনত্রং মনত্রং ভূতত্ত্ব পেতত্ত্বস্মং চ আমন্ত্রণ" পড়ার সাথে সাথেই মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, মোমবাতির আলো নিভে যায়, চারিদিক কেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার, একে ওপরে কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। হঠাৎ করেই দুজনে এক অবাক করা ঘটনা দেখতে পেল, কেউ যেন তাদের ছুয়ে পালাচ্ছে। কেউ আবার তাদের জড়িয়ে ধরে খুব আদর করছে। এ এক আশ্চর্য ঘটনা। দুজনে বুঝে উঠতে পারছে না কী করবে! এর মধ্যে হঠাৎই তারা দেখল, কেউ যেন একজন মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। কে এটা? দুজনের মনে সেই একই প্রশ্ন। দুজনেই হতভম্ব হয়ে জানার চেষ্টা করলো, কিন্তু জানতে পারছে না। তারা দুজনে সেই আলোর দিকে যাচ্ছে আর আলো টাও তাদের দিকে আসছে। কিন্তু কিছুতেই তারা সেখানে পৌছাতে পারছে না। মন্দির ছোটো ওইটুকু একটা মন্দির, তার ভেতর এত জায়গা কী করে? এ তো যেন কোনো রাস্তা শেষই হচ্ছে না! এগিয়েই যাচ্ছে আলোক আর রবি। কোনোরকম তারা সেই আলোর কাছে পৌছাই আর দেখে, একজন কেউ মোমবাতি ধরে তাদেরকে আলো দেখিয়ে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে। তারা দুজনে লোকটির মুখটা দেখার খুব চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। চলতে চলতে হঠাৎ যেন লোকটা দারিয়ে যায়, আলোক আর রবি লোকটার সামনে গিয়ে তার মুখ দেখার চেষ্টা করে। মুখটা দেখতে গিয়েই তারা দেখে এক আলাদাই চেহারা, মুখটা ঠিক হরিণের মতো, কিন্তু হরিণ ঠিক নয়। শিং আছে কিন্তু একদিকে। আর শরীর টা কেমন অর্ধ মানুষ অর্ধ গরুর মতো। দুটো হাত চারটে পা। ওইখানে দারিয়ে দারিয়ে লোকটা তাদেরকে বললো,
লোক :- " সোজা যাবি যেমনটা তোদের পা নিয়ে যাবে পায়ের ওপর কোনো অধিকার দেখাবে না।"
এইশুনে রবি আর আলোক দুজনে হাটতে শুরু করলো। হাটতে হাটতে তারা এসে পৌছালো এক নদীর ধারে। নদীর আকাশ যেন আলাদাই রকমের আভা যুক্ত। সেখানে দেখলো তারা এক অংশ যেখানে চারদিকে জল আর মাঝখানে ফাকা গভীর বালির খাত, তারা তাদের পায়ে কোনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তাদের পা সোজা নিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে সেই বালির খাদে। সেখানে পৌছে তারা দেখে এক আশ্চর্য জিনিস এক আশ্চর্য লকেট আর নীচে বালিতে লেখা লকেট পরে যা চাইবি তাই পাবি, কিন্তু সেটা হবে তোদের শেষ ইচ্ছা। এইবার লকেটের কাছে গিয়ে আলোক লকেট ওঠায়। লকেট উঠিয়েই দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। কে পরবে সে লকেট কে নেবে সেই লকেট। এই করতে করতে দুজনে কাড়াকাড়ি শুরু করে দেয়। লকেট ভেঙে যায়। ভেঙে গিয়ে দুভাগ হয়ে যায় আর মাটিতে পড়ে যায়। আর তারপরই লকেট থেকে বের হয় এক আভা। আলোক আর রবি দুজনেই চোখে কিছু দেখতে পায় না। চারিদিকে কেমন আলোক আচ্ছন্ন হয়ে যায় আর কেউ এসে তাদের কানে কানে বলে যায় আমাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করিস না নাহলে অকালে প্রাণ হারাবি। এরপরেই তাদের জ্ঞান হারিয়ে যায়।
এরপর সকাল হয় সকালে উঠে তারা দেখে তারা তাদের বাড়িতে নিজের বিছানায়। কী হল কী হয়েছিল তারা কিছু বুঝতে পারছে না। আলোক আর রবি দুজনে দুজনের বাড়িতে কিন্তু তারা একই কথা ভাবছে, তারা এটাও ভাবছে তারা কী স্বপ্ন দেখছিল। তারা দুজনে ভাবছে কথাটা কী কাউকে বলবে? যদি বলে কাউকে তাহলে সবাই তাদেরকে পাগল ভাববে। তাই আলোক আর রবি ঠিক এই ব্যাপার নিয়ে একে অপরকে বলবে ঠিক করে, যেহেতু যদি এটা স্বপ্নও হয় তাহলে কোনো অসুবিধা হবে না এক বন্ধু তার বন্ধুকে স্বপ্নের কথা বলবে যে সেও তার স্বপ্নে ছিল এইরকম হচ্ছিল। এরপর তারা সকালবেলা দেখা করে একে অপরের সাথে সেয়ার করে কথা একই স্বপ্ন একইসবকিছু যা রবি দেখেছিল তা আলোক ও দেখেছে যা আলোক দেখেছিল তা রবিও দেখেছে কীভাবে সম্ভব। এরপর তারা দুজনে সেই নদীর ধারে মন্দিরে যায় আর ঠিক সেই সেইসময় পুরোহিত যে মন্দিরে প্রতিদিন পুজো করে সেও সেই মন্দিরে পুজো করার জন্য উপস্থিত থাকে। তারা মন্দিরে গিয়ে সেই জায়গাগুলো খোঁজে যেখানে তারা বইটি পেয়েছিল তারা দেখে সেখানে কিছু নেই, কারণ বইটি তারা সাথে নিয়েই সেই নদীর মাঝখানে গিয়েছিল। এরপর তারা দুজনে পুরোহিতকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে থাকে। এরই মধ্যে আলোক জিজ্ঞেস করে,
আলোক :- " ঠাকুরমশাই, এই মন্দির কীভাবে প্রতিষ্ঠা হয়?"
প্রশ্নের উত্তরে পুরোহিত বলে,
পুরোহিত :- " একসময় এটা শশ্মান ছিল এখনও যদিও শশ্মান আছে। যাদের কবর দেওয়ার রিতী আছে তাদের বাড়িতে মানুষ মারা গেলে এখানে কবর দেয়। তাই এখানে যেন ভূতেরা বাস না করে সেই ভেবে এখানে মন্দিরে তৈরি করা হয়। আমিও সঠিক জানি না আমি আমার বাপ ঠাকুরদার কাছে শুনেছি তারা এখানে পুজো করতো যুগ যুগ ধরে এইপ্রথা চলে আসছে। আমার বাপ ঠাকুরদা বলেছিল এই বিষয়ে এই মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে সব কিছু একটা বইয়ে লেখা ছিল। বইটা কে লিখেছিল কীভাবে মন্দিরে এসেছে কেউ জানতো না। বইটা আমি কোনোদিন খুজে পায়নি, এতদিন পুজো করছি। কিন্তু আমার ঠাকুরদার মুখে শুনেছি একদিন নাকি পুজো করতে মন্দিরে এসেছিল মন্দিরে এসে দেখে একটা বই, সেটা পাহাড়া দিচ্ছে একটা সাপ সাপটিকে সরিয়ে বইটা উদ্ধার করে পড়ার চেষ্টাও করেছিল কিন্তু পারেনি। শুধু আমার ঠাকুরদা নয় অনেকেই চেষ্টা করেছিল কেউ বইটা পড়তে পারেনি খুলতে বইটা খুললেই নাকি অজ্ঞান হয়ে যেত। তাই বইটা এখানেই কোথাও রেখে দিয়েছিল। কিন্তু আমিও অনেক খুজেছি বইটা পাইনি। বইটা নাকি একটা সময়ের পর উধাও হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ আবার বলে সন্ধ্যার সময় বইটি দেখেছে কিন্তু সকালে এসে সেই জায়গাই বইটি খুজলে আর খুজে পাইনি। আর আমি সকালে পুজো করি। হ্যাঁ তবে সন্ধ্যায় একবার এসেছিলাম বইয়ে খোজে কিন্তু খুঁজে পাইনি।"
একথা শুনে আলোক আর রবি থ, তারা বুঝতে পারছে না তারা কী করবে। তাদের বুদ্ধি কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তারা এই অবস্থাই বাড়ি ফিরে আসে, এই নিয়ে কাউকে কিছু বলতে পারে না। তারা এই কথা সারা জীবনের মতো তাদের মনের মধ্যেই রেখে দেয়।
তো বন্ধুরা কেমন লাগলো তোমাদের "নদীর ধারে ভুতের স্থান গল্পটা" যদি ভালো লাগে তাহলে এই গল্পটা যারা গল্প পড়তে ভালোবাসে তাদের সাথে সেয়ার করে দাও। আর এইরকম গল্প পেতে আমাদের website এর সাথে জুড়ে থাক kahinirduniya.blogspot.com এখানে গল্প, আর্টিকেলস, আরও অনেক মজার পোস্ট আর গল্প সেয়ার করা হয়।
❤️ধন্যবাদ❤️

0 Comments